1. admin@news24hour.net : admin :
আইফোন চুরির অপবাদ, জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন, তারপর মৃত্যু! - নিউজ ২৪ আওয়ার
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন

আইফোন চুরির অপবাদ, জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন, তারপর মৃত্যু!

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

আইফোন চুরির অপবাদ, জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন, তারপর মৃত্যু! লক্ষ্মীপুরে ১৪ বছরের মেহেদীকে ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক ছাত্রাবাসে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের রহস্যজনক মৃত্যু এখন পুরো জেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর পরিবার সরাসরি অভিযোগ করেছে, একটি আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন এক কলেজ শিক্ষার্থীর আইফোন হারিয়ে যাওয়ার পর মেহেদীর বিরুদ্ধে সন্দেহ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কয়েকজন সিনিয়র ছাত্র তাকে একটি কক্ষে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মারধর করে। পরে তার মৃত্যু হলে ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
আবাসিক শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের মারধরের খবর পেয়ে মেহেদীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও দাবি করেন, মৃত্যুর পর ঘটনাটি আড়াল করতে মেহেদীর গলায় মাফলার পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
এদিকে মেহেদীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই একাডেমির সামনে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় জনতা। প্রধান ফটক, অভ্যর্থনা কক্ষসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। কয়েকটি যানবাহনেও আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত ৯ শিক্ষার্থী ছাত্রাবাস ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে একাডেমি কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে মেহেদীর মরদেহ নিয়ে রামগঞ্জ থানার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তাদের একটাই দাবি, “যদি এটি হত্যা হয়ে থাকে, তাহলে জড়িত প্রত্যেকের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একটি মোবাইল ফোন হারানোর অভিযোগ থেকে কীভাবে একজন ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটনা গড়াল, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। মেহেদীর পরিবার বিচার চাইছে, আর পুরো রামগঞ্জ অপেক্ষা করছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের ফলাফলের জন্য।
একজন শিক্ষার্থী চোর কি না, সেটি প্রমাণের দায়িত্ব সহপাঠীদের নয়। বিচার করার অধিকার কারও ব্যক্তিগত নয়। অভিযোগ সত্য হোক বা মিথ্যা, কোনো অবস্থাতেই একজন শিশুর প্রাণ চলে যাওয়ার মতো ঘটনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ নিউজ ২৪ আওয়ার
Theme Customized By Shakil IT Park