1. admin@news24hour.net : admin :
ডাক্তার বলেছে সাড়ে ৪ থেকে ৫ বছর বাঁচব: তানিয়া বৃষ্টি - নিউজ ২৪ আওয়ার
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন

ডাক্তার বলেছে সাড়ে ৪ থেকে ৫ বছর বাঁচব: তানিয়া বৃষ্টি

  • প্রকাশিত : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

নিউজ24আওয়ার ডেস্ক : দীর্ঘ দশ মাসের জীবন-মৃত্যুর লড়াই পেরিয়ে আবারও ক্যামেরার সামনে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি।

মস্তিষ্কে টিউমার, দফায় দফায় অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপির চরম কষ্ট আর লাইফ সাপোর্টের দীর্ঘ লড়াইয়ের এক পর্যায়ে চেন্নাইয়ের চিকিৎসকেরা অভিনেত্রীর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর আয়ুষ্কালের শঙ্কা প্রকাশ করলেও, সেই সমস্ত অন্ধকার পূর্বাভাস ও শারীরিক সংকট পেছনে ফেলে নতুন ছন্দে জীবন শুরু করেছেন এই তারকা।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের শারীরিক অসুস্থতা, দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং শুটিংয়ে ফেরার অনুভূতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তানিয়া বৃষ্টি। সেখানে দীর্ঘ বিরতি ভেঙে ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে শুটিংয়ে ফেরার অনুভূতিকে তিনি অভিহিত করেছেন নিজের ‘দ্বিতীয় জন্ম’ হিসেবে।

গত বছরের ডিসেম্বরে একটি নাটকের শুটিং চলাকালীন হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় তানিয়া বৃষ্টির। প্রথম চার দিন ব্যথা অবহেলা করেই কাজ চালিয়ে গেলেও পঞ্চম দিনে তীব্র বমি শুরু হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার রিপোর্টে তার মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে।

প্রথমে সাধারণ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার আশা থাকলেও চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালের একজন অনকোলজিস্ট যখন তার আয়ুষ্কাল নিয়ে শঙ্কার কথা জানান, তখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এই অভিনেত্রী।

ঢাকার প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে বিদায়ের মতো কথা বলেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক পরিস্থিতি এতটাই সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে যে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। আইসিইউর চারপাশের সেই বিভীষিকাময় পরিবেশে জ্ঞান ফেরার পর তার মনে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছিলেন মা ও বোন।

বাবা না থাকায় অসুস্থতার পুরোটা সময় মায়ের রাতজাগা সেবা আর পরিবারের প্রার্থনা তার বেঁচে থাকার বড় প্রেরণা হয়ে কাজ করেছিল বলে জানান তানিয়া বৃষ্টি। এ ছাড়া কঠিন এই সময়ে অভিনেতা মোশাররফ করিম, নিলয় ও প্রযোজক আলী বশীরসহ নাট্যাঙ্গনের অনেকেই নিয়মিত তার খোঁজখবর নিয়েছেন বলেও জানান অভিনেত্রী।

তানিয়া বলেন, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের কড়া পরামর্শ ও কেমোথেরাপির বাকি থাকা দুই মাসের কোর্স সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঘরের চার দেওয়ালে বন্দি থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কারণে অনেক অনুরোধ করে একটি নাটকের কাজ করার অনুমতি নিয়েছেন তিনি।

‘অংশীদার’ নামের নতুন এই নাটকে পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের প্রেক্ষাপটে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তানিয়া বৃষ্টি, যেখানে বাবার মৃত্যুর পর চাচার সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তার চরিত্রটি।

অভিনেত্রী জানান, শুটিংয়ের প্রথম দিনে পরিচালক, ক্যামেরাম্যান ও প্রযোজনা দলের সবাই তার স্বাস্থ্যের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। দীর্ঘ দশ মাস পর চেনা ফ্লোরে ফিরে তানিয়া বৃষ্টি বলেন, সহকর্মীরা তার কাছে পরিবারের মতো, আর শুটিং ফ্লোর হলো মানসিক শান্তির বড় আশ্রয়।

এর আগে অসুস্থতার এই লম্বা সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অপমৃত্যুর মতো গুজবও ছড়ানো হয়েছিল। তবে এসব নেতিবাচকতাকে পেছনে ফেলে জীবনকে এখন ইতিবাচকভাবে দেখছেন এই অভিনেত্রী।

পাশাপাশি, ক্যানসার ও জটিল রোগের সঙ্গে লড়াই করা রোগীদের উদ্দেশ্যেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তানিয়া। তার কথায়, রোগের নাম শুনে মনোবল হারানো যাবে না। দৃঢ় মানসিক শক্তি, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, চিকিৎসকের কঠোর নির্দেশনা মানা এবং পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানোই এই যুদ্ধের প্রধান হাতিয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ নিউজ ২৪ আওয়ার
Theme Customized By Shakil IT Park