1. admin@news24hour.net : admin :
বিধবা নারীর ইদ্দত পালনের নিয়ম কী? - নিউজ ২৪ আওয়ার
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন

বিধবা নারীর ইদ্দত পালনের নিয়ম কী?

  • প্রকাশিত : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫

নিউজ24আওয়ার ডেস্ক : ইসলামে ইদ্দত পালন নারীর জন্য একটি সুরক্ষা, সামাজিক ও ধর্মীয় বিধি। কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী, স্বামী মারা গেলে নারীর ৪ মাস ১০ দিন ইদ্দত পালন বাধ্যতামূলক। নারী যদি বৃদ্ধ হয় বা যার সন্তান হওয়ার সম্ভবনা নেই তার ক্ষেত্রেও কি এই হুকুম প্রযোজ্য?

স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে ৪ মাস ১০ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

وَ الَّذِیۡنَ یُتَوَفَّوۡنَ مِنۡكُمۡ وَ یَذَرُوۡنَ اَزۡوَاجًا یَّتَرَبَّصۡنَ بِاَنۡفُسِهِنَّ اَرۡبَعَۃَ اَشۡهُرٍ وَّ عَشۡرًا

‘আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা মারা যাবে এবং স্ত্রীদেরকে রেখে যাবে, তাদের স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় থাকবে।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৩৪)

অত্র আয়াতে আল্লাহ তাআলা সমগ্র স্ত্রী জাতিকে সম্বোধন করেছেন। প্রাপ্তবয়স্কা, অপ্রাপ্তবয়স্কা, যুবতী, বৃদ্ধা ও বন্ধ্যা সব ধরনের স্ত্রী এর অন্তর্ভুক্ত।’ (ইবনু বায (রহ.)-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট)।

ইমাম ইবনু কুদামা, ইবনু আব্দিল বারর, ইবনুল মুনযির (রহ.) বলেন, ‘আলেমরা বলেছেন, এই আয়াত প্রমাণ করে যে, স্বামী মারা গেলে প্রত্যেক স্ত্রীকে ৪ মাস ১০ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে। এখানে ছোট-বড়, প্রাপ্তবয়স্কা, অপ্রাপ্তবয়স্কা, বৃদ্ধা ও বন্ধ্যাসহ সব ধরনের স্ত্রীদের সম্বোধন করা হয়েছে, স্বামীর সঙ্গে তার বাসররাত হোক কিংবা না হোক। এ আয়াত সাধারণভাবে সব স্ত্রীর উদ্দেশে বলা হয়েছে (আল-মুগনী, ৮ম খণ্ড, পৃ. ১১৫; আল-ইসতিযকার, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ১৭৮)।

উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম তাবারী (রহ.) বলেন—বিধবারা ইদ্দতের চার মাস দশ দিন অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, সুগন্ধি ব্যবহার, সাজসজ্জা গ্রহণ এবং স্বামীর জীবদ্দশায় যেখানে বসবাস করত সেখান থেকে স্থানান্তর হওয়া থেকে বিরত থাকবে। (তাফসিরে তাবারি ২/৫২৫)

তবে গর্ভবতী স্ত্রীদের ইদ্দতকাল ভিন্ন। যে নারী গর্ভবতী অবস্থায় তালাকপ্রাপ্ত হয় বা যার স্বামী মারা যায়, তার ইদ্দতের সময়কাল নির্ধারিত হবে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যন্ত — তা তিন মাসের কম বা বেশি যাই হোক না কেন। আল্লাহ তাআলার ঘোষণা-

وَ اُولَاتُ الۡاَحۡمَالِ اَجَلُهُنَّ اَنۡ یَّضَعۡنَ حَمۡلَهُنَّ ؕ

‘আর গর্ভবতী স্ত্রীদের ‘ইদ্দাতকাল তাদের সন্তান প্রসব পর্যন্ত। ’ (সূরা আত-ত্বালাক্ব : ৪)।

এছাড়া বিবাহের পর বাসররাত না হয়ে থাকলেও স্বামীহারা নারী ওই ইদ্দত পালন করবে। নাবালিকা কিশোরী অথবা অতিবৃদ্ধা হলেও ইদ্দত পালন করতে হবে (মাজাল্লাতুল বুহূছিল ইসলামিয়্যাহ, ১৬তম খণ্ড, পৃ. ১১৪, ১২০, ১৩২)।

ইদ্দতকালীন সময় নারীর অবস্থান

হযরত ফুরাইয়া বিনতে মালিক (রা.)-এর স্বামী মৃত্যুবরণ করার পর তিনি নবীজি (সা.)-এর কাছে তার পিত্রালয়ে চলে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন—

امْكُثِي فِي بَيْتِكِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَتْ فَاعْتَدَدْتُ فِيهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا

ইদ্দত (চার মাস দশ দিন) পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার ঘরেই (স্বামী থাকাবস্থায় যেখানে বসবাস করতে সেখানে) অবস্থান কর।’ ফুরাইআ (রা.) বলেন, আমি এখানে ইদ্দাত পালন করলাম চার মাস দশদিন।’ (তিরমিজি ১২০৪)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ নিউজ ২৪ আওয়ার
Theme Customized By Shakil IT Park