1. admin@news24hour.net : admin :
গাজীপুরে প্রকৌশলী রোকনোজ্জামানের আঙ্গুর চাষে চমক - নিউজ ২৪ আওয়ার
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন

গাজীপুরে প্রকৌশলী রোকনোজ্জামানের আঙ্গুর চাষে চমক

  • প্রকাশিত : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

নিউজ24আওয়ার ডেস্ক : দেশের মাটিতে ইউক্রেন জাতের আঙুর বাণিজ্যিকভাবে চাষে আলোচনায় এসেছেন গাজীপুরের বাসিন্দা প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান। এক বিঘা শতক জমিতে এ আঙুর চাষ করে চমক দেখিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিপ্রবর্থা গ্রামে মো. রোকনুজ্জামান প্রায় পাঁচ একর জমি লিজ নিয়ে মাল্টা, ড্রাগন ফল ও প্যাশন ফ্রুট চাষ করে আগেই সফলতা পান। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন করে তিনি এক বিঘা জমিতে ইউক্রেন জাতের আঙুর চাষ শুরু করেন। বর্তমানে ওই জমিতে প্রায় দুই শতাধিক গাছে ঝুলছে সবুজ রঙের আঙুরের থোকা।

বাঁশের মাচায় ঝুলে থাকা সবুজ আঙুর দূর থেকে পথচারীদের নজর কাড়ছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এ বাগান দেখতে আসেন। এখনও বিক্রির উপযোগী না হলেও ফলন ভালো হওয়ায় অনেক পাইকাররা তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গাছে ফুল আসে এবং চার মাসের মধ্যেই ফল পরিপক্ক হয়ে ওঠে। আর মাত্র এক মাস পর ফলগুলো বেগুনি রঙ ধারণ করবে এবং খাওয়ার উপযোগী হবে। স্বাদে মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় এ আঙুর স্থানীয় বাজারেও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাগান পরিচর্চাকারী ও ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, এ জাতের আঙুর চারমাসেই পরিপক্ক হয়ে খাওয়ার উপযোগী হয়। বাংলাদেশে চাষ করা অন্যান্য ফসলের মতই এর সার ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা করতে হয়।

প্রতিদিন শতশত মানুষ বাগানে আঙুর ফল দেখতে আসছেন। বাগান দেখতে আসা মাসুদ রানা যুগান্তরকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি দেখে প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু এসে দেখলাম গাজীপুরেও এত সুন্দর আঙুর চাষ সম্ভব। ফলন দেখে আমরা মুগ্ধ। এখান থেকে চারা নিয়ে চাষ করার কথা ভাবছি।

প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান বলেন, করোনা মহামারির সময় থেকেই পেশাগত কাজের পাশাপাশি কৃষির দিকে ঝুঁকে পড়ি। শুরুতে বিভিন্ন ফলের চাষ করলেও এবার আঙুর নিয়ে কাজ শুরু করি। এক বিঘা জমি প্রস্তুত, চারা রোপন ও পরিচর্যা মিলিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে প্রথমবারের ফলনেই সেই খরচ উঠে আসবে বলে আশা করছি। এরপর অন্তত ২০ বছর এই গাছ থেকে নিয়মিত ফলন পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তরুণদের জন্য কৃষিখাত একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে কৃষির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। তাই বেকারত্ব দূর করতে তরুণদের কৃষিকাজে আগ্রহী হওয়া উচিত।

গাজীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, আমরা খবর পেয়ে বাগানটি পরিদর্শন করেছি। রোকনুজ্জামান আগে থেকেই ড্রাগন ফল চাষে সফল ছিলেন। এবার তিনি বাণিজ্যিকভাবে আঙুর উৎপাদন শুরু করেছেন। আমরা নিয়মিত তার বাগানের খোঁজখবর রাখছি এবং উৎপাদনের পরিমাণ ও বাজারজাতকরণের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

তিনি আরও বলেন, আঙুর চাষের জন্য দোআঁশযুক্ত লাল মাটি, জৈব সার সমৃদ্ধ কাঁকর মাটি কিংবা পাহাড়ি অঞ্চলের পাললিক মাটি সবচেয়ে উপযোগী। এ ধরনের চাষে জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে, যাতে পানি জমে না থাকে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায় এমন জায়গা আঙুর চাষের জন্য আদর্শ। এ ধরনের কৃষি উদ্যোগ দেশব্যাপী বিস্তৃত করা গেলে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হওয়া সম্ভব।

গাজীপুরের বাসিন্দা ও কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু নতুন ফসলের সম্ভাবনাই তৈরি করছে না বরং দেশের কৃষিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। যথাযথ সহায়তা ও পরিকল্পনা থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ আরও বিস্তৃত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ নিউজ ২৪ আওয়ার
Theme Customized By Shakil IT Park