উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করার প্রবণতা আমাদের সমাজ-সংস্কৃতিতে প্রবলভাবেই আছে। পৈতৃক সম্পত্তির হিসাব চাইতে গেলে আপনজনের আসল চেহারা উন্মেচিত হয়। সহোদরের সম্পত্তির হিসাব বুঝিয়ে দেয়ার আগেই নিজের সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দেন কেউ। সম্পত্তির ভাগাভাগির জন্য বৈধ অংশীদারদের সঙ্গে নয়, ওই আত্মীয়দের সঙ্গে শলা-পরামর্শ করা হচ্ছে, যাদের সঙ্গে আত্মীয়তা করা হয়েছে কেবলই প্রভাব প্রতিপত্তি বৃদ্ধির সম্ভাবনায়। স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে যথানিয়মে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা করেছেন, এমন লোক বিরল। সমাজে ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্য, সম্ভ্রান্ত হিসেবে সম্মানিত, কোটি টাকার মালিক, কিংবা ধর্মকর্ম করেন খুব, এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারায় অংশীজনদের ঠকানোর অভিযোগ রয়েছে।এমনেেই এক গঠনার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো….
ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অপকৌশল কোনো কোনো ঘটনা মানুষের জীবনকে কঠিন ও অসহায় করে তুলে। মানুষ অমানবিক হয়ে নিজের সহোদর ভাই, ভগ্নি, পিতা-মাতাকে অবিরাম যন্ত্রণা দিয়ে চারপাশের পরিবেশকে ভারী করে তুলে। অনেকে নীরব থেকে অমানুসিক নির্যাতন সহ্য করে আবার অনেকে এই অমানুসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবার ছেড়ে ঘর ছেড়ে এমনকি দেশ ছেড়ে পালিয়ে বেড়ায়। তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে কাজী নাজনীন নবীর জীবনে। নিজস্ব প্রতিবেদকের বরাত হইতে জানা যায় যে, কাজী নবী উদ্দিন এক স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক পুত্র উত্তরাধিকার রাখিয়া মৃতুবরণ করেন। অতঃপর তার অসুস্থ বৃদ্ধ স্ত্রী, মৃত স্বামী কাজী নবী উদ্দিন এর বাড়িতে বসবাস করিতে থাকে। কাজী নাজনীন নবী স্বামীর সাথে কানাডা গমন করে। অতঃপর সেখানে তার স্বামীর সাথে তার ডিভোর্স হয়। ডিভোর্সি অবস্থায় নিঃসন্তান কাজী নাজনীন নবী কানাডা থেকে দেশে আসার জন্য তার আপন ভাই কাজী কামাল উদ্দিনকে ব্যবস্থা করার অনুরোধ করে। কিন্তু কাজী কামাল উদ্দিন তার সহোদর বোন কাজী নাজনীন নবী কে বলে যে তোমাকে আরা বাংলাদেশে আসা লাগবে না। তুমি সেখানেই থাকো। একপর্যায়ে তার ভাইয়ের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে তর্কাতর্কি হয়। বিষয়টি কাজী নাজনীন নবী তার মাকে জানাইলে তার মা বলে যে, তার ভাই কাজী কামাল উদ্দিন তার সাথেও দুর্ব্যবহার করে। নিয়মিত সেবা-শুশ্রূষা করে না, ওষুধপত্র কিনে দেয় না, ভালো খাবারও দেয় না। বিষয়টি শুনে কাজী নাজনীন নবী কানাডা থেকে নিয়মিতভাবে মায়ের জন্য টাকা পাঠায়, এই টাকা দিয়ে কামরুন্নাহার এর সংসার চলে চিকিৎসা চলে। কাজী নাজনীন নবী ভাই কাজী কামাল উদ্দিন এর কাছে পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ দাবি করে সাথে মাও তার স্বামী রেখে যাওয়া সম্পত্তি তিন ভাইবোনের মধ্যে বণ্টনের জন্য কাজী কামাল উদ্দিন কে বলে। কাজী কামাল উদ্দিন এই দাবি বিরুদ্ধে গিয়ে পিতার রেখে যাওয়া সকল সম্পত্তি হইতে বোন এবং মাকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সে স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতাদের সাথে যোগযোগ বৃদ্ধি করে এবং প্রবাসী কাজী নাজনীন নবীর বিরুদ্ধে নানা প্রকার কুৎসা রটনা করতে থাকে। একপর্যায়ে সে পুলিশকে জানায় তার বোন কাজী নাজনীন নবী ও তার প্রাক্তন স্বামী বিএনপি নেতা মোঃ আবেদ হোসেন ভূঁইয়া কানাডা গিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে বিদেশীদেরকে বাংলাদেশ সম্পর্কে কুপ্রভাবমূলক কথা বলছে যাতে বিদেশীরা বাংলাদেশকে ঘৃণা করে বাংলাদেশ সরকারকে অসহযোগিতা করে। বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ কাজী নাজনীন নবীর মা কামরুন্নাহার-কে জিজ্ঞাসা করে কাজী নাজনীন নবীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চায়। সরলমনা কামরুন্নাহার কাজী নাজনীন নবীর কানাডায় অবস্থানের কথা বলে। তখন পুলিশ বলে যে, আপনার মেয়ে ও আপনার মেয়ের প্রাক্তন স্বামী বিএনপি নেতা মোঃ আবেদ হোসেন ভূঁইয়া কানাডায় থাকার জন্য আশ্রয় পাওয়ার জন্য দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। আপনার মেয়ে রাষ্ট্রদোহী মামলার আসামী। এ বিষয়গুলো বৃদ্ধা কামরুন্নাহার তার প্রবাসী মেয়ে কাজী নাজনীন নবীকে জানায়। এবং স্বামীর সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য তিনি ফৌজদারি আদালতে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার বিষয় অবহিত হইয়া তাহার ছেলে কাজী কামাল উদ্দিন অতিশয় ক্ষিপ্ত হইয়া মা কামরুন্নাহারকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং তাহার মেয়ে যদি দেশে আসে তাহলে সে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিবে ঘরছাড়া করবে, এমনকি গুম করারও ভয় দেখায়। ছেলের এই অভিনব কায়দা হলো এই যে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন যাহাই হোক না কেন, মৃত পিতার সকল সম্পত্তির তার হইবে কারণ সে বর্তমান সরকারের অনুগামী অনুসারী। তার এই অভিনব কৌশলে তার পরিবারের আত্মীয় অনাত্মীয় বন্ধুবান্ধব সকলেই নির্বাক। সকল অংশীদারদের দাবি অগ্রাহ্যভাবে পরাভূত হবে তাহার দাবি হবে একক, অনড়। পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অপকৌশল সকলকে বিস্মিত করেছে। আইন হোক সবার জন্য, সকলের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হোক।
Leave a Reply