1. admin@news24hour.net : admin :
নুন-পান্তা খেয়েও ছেলের সঙ্গে থাকতে চাই - নিউজ ২৪ আওয়ার
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন

নুন-পান্তা খেয়েও ছেলের সঙ্গে থাকতে চাই

  • প্রকাশিত : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

নিউজ24আওয়ার ডেস্ক : বৃদ্ধ ও অসুস্থ মাকে নিজের সঙ্গে রেখে ভরণপোষণ করতে রাজি নন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেন। বাধ্য করলে সুইসাইড করার হুমকি দিয়ছেন তিনি।

এদিকে ছেলের কাছ থেকে ভরণপোষণ ও আশ্রয় পাওয়ার আশায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনওর) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মা মুন্নি খাতুন (৫৫)।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মায়ের করা অভিযোগের শুনানিতে ইউএনও সেলিম আহমেদের সামনে সাগর বলেন, মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব। আমি মাকে সঙ্গে রাখতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন, আমি মাকে মাসে কত টাকা দেব।

অন্যদিকে, হৃদরোগে আক্রান্ত অসহায় মা মুন্নি খাতুনের আকুতি, জীবনের শেষ সময়ে ছেলের সঙ্গে থেকে নুন-পান্তা খেয়েও বাকি জীবনটা কাটাতে চান তিনি।

অভিযুক্ত সাগর হোসেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম ও মুন্নি খাতুন দম্পতির ছেলে। তিনি উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুন্নি খাতুনের স্বামী সিরাজুল ইসলাম অনেক আগেই মারা গেছেন। তার দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে সাগর ও এক মেয়ে রয়েছেন। মেয়েটিরও বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে বৃদ্ধ বয়সে মায়ের প্রধান অবলম্বন এখন একমাত্র ছেলে সাগর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগর হোসেনের বিয়ের পর থেকেই মায়ের সঙ্গে তার পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ছেলে মাকে নিয়মিত ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে দেন এবং নিজের সঙ্গে রাখতেও অনীহা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী মায়ের অভিযোগ, ছেলের কাছ থেকে ভরণপোষণ ও আশ্রয় পাওয়ার আশায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন তিনি। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তার অভিযোগের স্থায়ী সুরাহা হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে বৃদ্ধা মা তার অসুস্থতা, অসহায়ত্ব এবং ছেলের সঙ্গে থেকে বাকি জীবন পার করার আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে সাঁথিয়া ইউএনওর কার্যালয়ে অভিযোগটির শুনানি হয়। শুনানিতে মুন্নি খাতুন ও তার ছেলে সাগর হোসেনের বক্তব্য শোনা হয়।

শুনানিতে ইউএনও সেলিম আহমেদ সাগরকে তার মাকে নিজের সঙ্গে রেখে দেখাশোনা করার বিষয়ে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন। একজন বৃদ্ধ ও অসুস্থ মায়ের শেষ বয়সের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে মানবিকভাবে সমস্যাটির সমাধান করার জন্যও গ্রাম পুলিশ সাগরকে ইউএনও নির্দেশ দেন।

তবে মাকে নিজের সঙ্গে না রাখার বিষয়ে সাগর অনড় থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ইউএনওকে বলেন, মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব। আমি মাকে সঙ্গে রাখতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন, আমি মাকে মাসে কত টাকা দেব।

পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ইউএনও সাগর হোসেনকে কয়েক দিনের সময় দেন। এ সময়ের মধ্যে মায়ের ভরণপোষণ ও দেখাশোনার বিষয়ে একটি সমাধানে আসার জন্য তাকে বলা হয়।

ছেলের সঙ্গে থাকার আকুতি করে মুন্নি খাতুন বলেন, আমার স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। আমি অসুস্থ মানুষ, হার্টের রোগী। আমার এখন ছেলেকে ছাড়া আর কে আছে? আমি ছেলের কাছে টাকা-পয়সা চাই না। নুন-পান্তা খেয়েও যদি ছেলের সঙ্গে থাকতে পারি, তাহলে বাকি জীবনটা পার করে দিতে পারব।

তিনি আরও বলেন, আমি তো মায়ের অধিকার নিয়ে ছেলের ঘরে থাকতে চাই। শেষ বয়সে সন্তানের কাছে একটু আশ্রয় চাইছি। এর বেশি আমার কোনো চাওয়া নেই।

নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, মা-ছেলের বিষয়টি শুরু থেকেই আমি সমাধানের চেষ্টা করেছি। তবে কোনো কিছুতেই রাজি হন না ছেলে সাগর। স্থানীয়ভাবে আমরা সমস্যাটি সমাধানে ব্যর্থ হয়েছি। পরবর্তীতে তার মা ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন।

ইউএনও সেলিম আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর উভয়পক্ষকে ডেকে শুনানি করা হয়েছে। একজন বৃদ্ধ ও অসুস্থ মা তার সন্তানের কাছে আশ্রয় ও ভরণপোষণ প্রত্যাশা করছেন। আমরা ছেলেকে বিষয়টি মানবিকভাবে দেখার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তাকে কয়েক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পরিবারের বিষয়টি যাতে আরও জটিল না হয় এবং একই সঙ্গে বৃদ্ধা মায়েরও যাতে কষ্ট না হয়, সেদিক বিবেচনা করেই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ নিউজ ২৪ আওয়ার
Theme Customized By Shakil IT Park